অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম - জানুন সম্পূর্ণ গাইড লাইন
আপনি কি ভ্রমণ, চিকিৎসা, অথবা জব করার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন? যে কারণেই হোক না কেন ? আপনি বিদেশ যাইতে চাইলে সর্বপ্রথম আপনার দরকার একটি পাসপোর্ট। আর আজকের এই আর্টিকেলটি তাদের জন্যই যাদের অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম সম্পর্কে কোন ধারণা নাই।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাসপোর্ট এর আবেদন করতে এখন আর অফিসে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না। এখন আপনি চাইলেই কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন। আর এই জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে ই পাসপোর্ট করবেন এর যাবতীয় নিয়ম কানুন।
পেট সূচিপত্রঃ অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম
- ই পাসপোর্ট কি?
- অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম
- ই -পাসপোর্ট এর খরচ ও মেয়াদ
- ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধের নিয়ম
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং
- পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্ট
- ই -পাসপোর্ট এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- ডেলিভারি ও পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- শেষ কথা: অনলাইনে ই পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম
ই পাসপোর্ট কি ?
ই-পাসপোর্ট বলতে আমরা সাধারণভাবে বুঝি যে ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো ,একটি আধুনিক ডিজিটাল পাসপোর্ট। যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও বায়োমেট্রিক ডেটা যেমন, ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্বাক্ষর ইত্যাদি একটি মাইক্রো চিপে সংরক্ষিত থাকে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা ও ভ্রমণ সুবিধা অনেক গুনে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে আগে মেশিন রেডাবেল পাসপোর্ট বা (MRP) পাসপোর্ট দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে শুধু ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। তাই ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আপনাকে এর যাবতীয় নিয়ম-কানুন গুলো জানা অত্যন্ত জরুরী।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম
আপনার যদি একটি পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়, তাহলে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম সম্পর্কে জানাটা অত্যন্ত জরুরি। আগে যেখানে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো এবং বিভিন্ন ধরনের দালালের খপরেও পড়তে হতো। সেখানে আপনি বর্তমান ডিজিটাল যুগে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে একটি ই-পাসপোর্ট করতে পারেন। আমরা আজকের এই আর্টিকেলে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ,নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ,কত টাকা লাগে, আবেদন প্রক্রিয়া ও ডেলিভারির সময়সীমা সম্পর্কে ধাপে ধাপে আলোচনা করব।
আরো পড়ুনঃ প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করুন
তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি নিজেই ঘরে বসে অনলাইনে ই পাসপোর্ট এর আবেদন করতে পারবেন।
ধাপ ১: অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেখানে আপনার ইমেইল এড্রেস দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ,লগইন করতে হবে। তারপর আপনার সামনে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে , যা নিচে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে, Apply for a new e-passport. ক্লিক করার পর আপনার সামনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের একটি ফর্ম আসবে। সেখানে আপনাকে নিচের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ২: আপনার সামনে নতুন যে পেজ ওপেন হবে সেখানে আপনাকে প্রথমে পাসপোর্ট এর ধরন নির্বাচন করতে হবে। পাসপোর্ট টাইপ এর জায়গায় সাধারণ ব্যক্তিদের জন্য, ordinary passport এবং সরকারি কর্মচারী দের জন্য Official passport নির্বাচন করার পর Save and continue বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে আরেকটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে।
ধাপ ৩: এরপর আপনার সামনে যে নতুন পেজটি আসবে, সেখানে আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন বা ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এই ফর্মের প্রথমে I apply for myself অপশনে টিক মার্ক দেওয়ার পর আপনার নাম ও আর রেজিস্ট্রেশনের দেওয়া তথ্য গুলো অটো চলে আসবে। তারপর বাকি তথ্যগুলো আপনাকে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তারপর Save and continue বাটনে ক্লিক করলে অন্য আরেকটি পেজ ওপেন হবে।
ধাপ ৪: এবার আপনার সামনে নতুন যেই পেজটি ওপেন হবে সেখানে আপনার স্থায়ী ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আপনার NID অনুযায়ী।
আরো পড়ুনঃঅনলাইনে জমি খারিজ করার নিয়ম
ধাপ ৫: উপরের পেজে আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার সকল তথ্য দেওয়ার পর ,পরবর্তী যে পেজ আপনার সামনে ওপেন হবে, সেখানে আপনাকে সঠিকভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে ,আপনার যদি পূর্বের কোন ,MRP পাসপোর্ট থাকে তাহলে প্রথমটি select করতে হবে, আর যদি আপনার ই পাসপোর্ট থেকে থাকে তাহলে দ্বিতীয় টি select করতে হবে, আর যদি আপনার আগের কোন পাসপোর্ট না থাকে তাহলে তিন নাম্বারটি select করতে হবে। তারপর Save and continue ক্লিক করার পর আপনাকে আরেকটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে।
ধাপ ৬: এই ধাপে আপনাকে আপনার পিতা মাতার নাম ও তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই পিতা-মাতার NID নাম্বার দিতে হবে। সব তথ্যগুলো সঠিকভাবে পূরণ করার পর Save and continue ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: এবার আপনার সামনে যে পেজটি আসবে সেখানে আপনার বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হবে। আপনি যদি অবিবাহিত হন তাহলে Single select করুন। আর যদি বিবাহিত হন তাহলে,Married select করুন। তারপর আবারো Save and continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৮: এই অপশনে আপনাকে Emergency contact, অর্থাৎ জরুরি যোগাযোগ। এখানে আপনার পরিবার অথবা কোন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তির তথ্য দিতে হবে এবং সেই ব্যক্তির সাথে আপনার সম্পর্ক কি তাও দিতে হবে। এবং আরো যে সকল তথ্যগুলো আছে তা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তারপর। Save and continue বাটনে ক্লিক করে আরেকটি নতুন পেজে যেতে হবে।
ধাপ ৯: এই পেজে আপনাকে আপনার পাসপোর্ট এর ধরন উল্লেখ করতে হবে। আপনি কোন ধরনের অর্থাৎ আপনার পাসপোর্ট ৫ বছর বা ১০ বছর, মেয়াদের । এবং পাসপোর্ট এর পেজ সংখ্যা ৪৮ পাতা বা ৬৪ পাতা হবে ,সেটি নির্বাচন করতে হবে। এখানে কত বছরের এবং কত পাতার পাসপোর্ট নেবেন তার ওপর ভিত্তি করে আপনার পাসপোর্টের কি নির্ধারণ হবে। তারপর Save and continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ১০: এবার আপনার সামনে যে পেজটি ওপেন হবে সেটি হল Delivery options & Appointment , এখানে আপনি Regular বা Express বা super Express অপশনটির যেকোনো একটি নির্বাচন করুন, রেগুলার হলে ২১ দিন এক্সপ্রেস হলে ১৫ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেস হলে দুইদিন সময়ের মধ্যে আপনি আপনার পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। এরপর Save and continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ১১: এবার আপনার সামনে যে ফর্মটি আসবে সেখানে আপনার দেওয়া সকল তথ্যগুলো দেখাবে। এবং সেই তথ্যগুলো সঠিক আছে কিনা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যদি কোন তথ্য আপনার পরিবর্তন করতে হয় তাহলে এডিট অপশনে ক্লিক করে সেখান থেকে আপনি আপনার তথ্যগুলো পরিবর্তন করতে পারবেন।
অনলাইনে ই পাসপোর্ট করার যে সকল প্রক্রিয়া রয়েছে তা আপনাদেরকে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আপনি সবগুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।
ই -পাসপোর্ট এর খরচ ও মেয়াদ -অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও নিয়ম
আপনি যখন একটি ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবেন তখন ই-পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী আপনার খরচ নির্ভর করবে। ধরন আপনি রেগুলার পাসপোর্ট নিবেন এবং তার মেয়াদ ৫ বছর এবং পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪৮ তাহলে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত ফি ৪০২৫ টাকা, এরকম ভাবে এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস এর পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ফি নির্ধারিত হয়ে থাকে। নিচে তা একটা ছক আকারে দেওয়া হলো:
আরো পড়ুনঃঘরে বসে মেয়েদের জন্য অনলাইনে ইনকামের সহজ উপায়
| পাসপোর্টের ধরন | মেয়াদ | পৃষ্ঠা সংখ্যা | ডেলিভারি টাইপ | ফি (টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| সাধারণ (Regular) | ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | সাধারণ | ৪,০২৫ টাকা |
| এক্সপ্রেস | ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | দ্রুত | ৬,৯০০ টাকা |
| সুপার এক্সপ্রেস | ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | অতি দ্রুত | ৯,২০০ টাকা |
| সাধারণ (Regular) | ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | সাধারণ | ৫,৭৫০ টাকা |
| এক্সপ্রেস | ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | দ্রুত | ৮,৬২৫ টাকা |
| সুপার এক্সপ্রেস | ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | অতি দ্রুত | ১২,৬৫০ টাকা |
ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধের নিয়ম
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং
পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্ট
ই-পাসপোর্ট এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয় পত্র NID এর মূল কপি ও ফটোকপি (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন) এর মূল কপি ও ফটোকপি (যা ১৮ বছর এর নিচে বয়সীদের জন্য)
- পুরনো পাসপোর্ট এর মূল কপি ও ফটোকপি (যদি আগে পাসপোর্ট থাকে)
- অফলাইনে ফ্রি পরিশোধ করা হলে তার রশিদ বা চালান কপি
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য NOC/Go
- অনলাইনে আবেদনকৃত ফরমের প্রিন্ট কপি (PDF)













স্মার্টজোনবিডির নীতি মালা মেনে কমেন্ট করুননীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url